কিভাবে অনলাইনে কেনা-কাটা করবেন?

আগে মানুষ ভাবত, “দোকানে গিয়ে যাচাই-বাছাই না করে আবার জিনিস কেনা যায় নাকি?”

কিন্তু করোনা এসে আমাদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে গেল, গতবাধা নিয়মে কেনা কাটার সময় শেষ। সময় এসেছে এই প্রযুক্তিকে চেখে দেখার। অনলাইনে কেনা কাটা করাটা কিন্তু তেমন কঠিন কিছু নয়। পন্য দেখবেন, পছন্দ হলে অর্ডার করবেন।

পন্য আপনার বাসার সামনে এসে হাজির হয়ে যাবে। শুনতে এতটা সহজ মনে হলেও, আমরা অনেকেই প্রথমবার অনলাইনে কেনা কাটা করতে গেলে কিছু না কিছু সমস্যার সম্মুখীন হই।

আজকে আমি এ সম্পর্কিত কিছু তথ্য দিব, যাতে পরবর্তীতে অনলাইনে কেনা কাটা করতে গেলে আমরা এসব সমস্যার সম্মুখীন না হই।

চাহিদামত আপনার পছন্দের পন্যটি খুজে নিনঃ গুগল, ইয়াহু,বিং বা যে কোন সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে আপনার প্রয়োজনের পণ্যটি খুঁজে নিন। পণ্য কেনার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দসই যেকোন ই-কমারস এর সাইট খুঁজে নিতে পারেন।

কীভাবে চিনবেন আসল ও নকল শাওমি ফোন।

 তবে যেসব সাইটের কাস্টমার সার্ভিস ভাল হিসেবে সুনাম আছে, সেসব সাইট কে অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, যে ওয়েবসাইট থেকে পণ্যটি কিনতে যাচ্ছেন সেটি বৈধ কিনা।আপনার নিরাপত্তার স্বার্থে আপনার নিজেরই বিষয়টা মাথায় রেখে সামনের দিকে এগুনো উচিত।

একটা ই-কমারস একাউন খুলুনঃ

ওয়েবসাইট বাছাই করার পর সে ওয়েবসাইটে এখন আপনার নিজের একটা খুলতে হবে।সেখানে আপনার যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য আপনাকে ওয়েবসাইটকে দিতে হবে। একারনেই মূলত ওয়েবসাইট বাছাই করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অবশ্যই একাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন, যাতে সেটি হ্যাক হবার সম্ভাবনা না থাকে।

সি,পি,এ (CPA)মার্কেটিং কি.? কিভাবে শুরু করবেন A-Z {2021},

নতুবা এরজন্য আপনি বিরম্বনার স্বীকার হতে পারেন। একাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য ব্যবহার করবেন।কোন রকম ফেক বা মেকি তথ্য দিয়ে একাউন্ট খুললে আপনি পরের বার একাউন্টটা আবার নতুন করে একাউন্টটি খুলতে গেলে আগেবারের দেয়া পুরাতন তথ্যগুলো ভুলে যেতে পারেন।

যার শাস্তি স্বরূপ আপনি হয়ত একাউন্টটাই হারাতে পারেন। 

 

পন্যের বিবরণ ভালমত পড়ুনঃ

অনলাইনে যে কোন পন্য কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ হল পণ্যের বিবরণ ভালমত পড়ে নেয়া। ই-কমার্সের সাইট গুলো থেকে পন্য কিনলে, পন্যের নিচে পন্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া থাকে।

 একটা জিনিস আমাদের সবসময় মাথায় রাখা উচিত, পন্য শুধু দেখতে নজরকারা হলেই আমরা যেন সেটা হুট করে কিনে না ফেলি। পন্যের বিবরণ যদি অস্পস্ট মনে হয় অথবা আপনার চাহিদামত না হয় তাহলে সে পন্যটা না কেনাই ভাল।

আবার স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম দাম দেয়া থাকলে সেই পণ্যগুলা পরিহার করাই শ্রেয়। প্রোডাক্ট রিভিউ ভালমত দেখুনঃ ই-কমারস সাইটের এটি একটি বেশ উপকারি বৈশিষ্ট্য। অনেক ক্রেতা পণ্য কেনার পর পণ্যটি কেমন হয়েছে তার সম্পর্কে তার নিজস্ব মতামত দেয়। এর থেকে পণ্য সম্পর্কে বেশ সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

 তবে এ বিষয়ে অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত, একেকজন মানুষের পছন্দ একেক রকম হতে পারে। কোন পণ্য অন্য ক্রেতার পছন্দ না হলে, আপনারও পণ্যটি পছন্দ হবে না, এটা ভাবাটা ভুল। তবে ক্রেতারা যদি ওই অনলাইন শপের কাস্টমার সার্ভিস নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে তবে আপনি বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারেন। ফেক অনলাইন শপগুলো থেকে সাবধান হনঃ অনলাইনে অনেক ফেক শপ থাকে।

 তারা মুলত ক্রেতাদেরকে সুন্দর পন্যের ছবি দেখিয়ে, আপনাকে এমন পণ্য ডেলিভার করবে যা মোটেই রুচিসম্মত নয়। এমন ঘটনা আজকাল অহরহই শুনতে পাচ্ছি আমরা। আবার এমন অনেক সমস্যাও হয়েছে যেখানে অনলাইন ট্রানজেকশনে টাকা পাবার পরেও গ্রাহক তার কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি পান নি।

এসব ব্যপারে সাবধানতা হিসেবে পণ্য কেনার আগে, দোকানের সম্পর্কে জেনে শুনে তারপর সেই দোকানে অর্ডার প্লেস করা উচিত। দোকানের সেলের রিভিউ, রেটিং, গ্রাহকদের মন্তব্য সবকিছু দেখে যাচাই বাছাই করতে হবে।

কিভাবে অনলাইনে কেনা-কাটা করবেন
রিটার্ন পলিসি ভালমত পড়ুনঃ

বেশির ভাগ ই-কমারস সাইটের রিটার্ন পলিসি পন্যের বিবরণের একদম শেষ পর্যায়ে উল্লেখ থাকে। অনেক অনলাইন শপ আছে যারা পণ্য ফেরত নিয়ে থাকে, আবার এমন অনেক শপ আছে যারা পণ্য বিক্রির পর ফেরত নেন না।

 যেসব দোকান পণ্য ফেরত নিয়ে থাকে, তারা কত দিনের মধ্যে পণ্য ফেরত নিবেন, সেটি মনযোগ সহকারে দেখা উচিত। কারণ অনেক সময় আপনি পণ্য কেনার পর সমস্যার সম্মুখীন হতেই পারেন অথবা পণ্যটি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে। তাই রিটার্ন পলিসিটি যত্নসহকারে পড়ে দেখা উচিত।

 পণ্য ডেলিভারী-ম্যানের সামনেই খুলে দেখুনঃ 

 এব্যপারে সকলেরই সাবধান হওয়া উচিত। পণ্য ডেলিভারী-ম্যানের সামনেই খুলে দেখলে পণ্যের কোন সমস্যা থাকলে তার ব্যপারে ধ্রুত সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্যাশ অন ডেরিভারি পদ্ধতি অনুসরণ করুনঃ

অনলাইন ট্রানজেকশনে প্রতারণার ঘটনা প্রায়শই শুনা যাচ্ছে। পণ্য হাতে পাবার পর মূল্য পরিশোধ করলে এই প্রতারণা এড়িয়ে যেতে পারেন সহজেই।

শেষ কথাঃ

অনলাইন কেনা কাটা এখন দিন দিন বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করে অনলাইনে কেনা কাটা করতে পারি আমরা খুব সহজেই।

Facebook

1 thought on “কিভাবে অনলাইনে কেনা-কাটা করবেন?”

Leave a Comment

%d bloggers like this: